ব্রেন টিউমারের পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা নিতে আগামীকাল ১২ আগস্ট লন্ডনে ফিরছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সকাল ১০টার একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। বিষয়টি জানিয়েছেন তাঁর ছেলে মিরাজুল মইন জয়।
ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্সও লন্ডনে যাবেন। সেখানে পৌঁছে প্রায় এক সপ্তাহ বিশ্রামে থাকবেন তিনি। এরপর শুরু হবে পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা তাঁর পরবর্তী চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।
জানা গেছে, লন্ডনে ফিরে পূর্ব লন্ডনের বার্কিংয়ে মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থাকবেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর মাউন্ট ভার্নন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হবে।
গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ইলিয়াস কাঞ্চনের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। ঝুঁকি থাকায় টিউমারের পুরো অংশ অপসারণ করা সম্ভব না হলেও চিকিৎসকেরা বড় একটি অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হন। এরপর শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা।
অস্ত্রোপচারের পর টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি ওরাল থেরাপি নেন তিনি। সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহে ৬০টিরও বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে অভিনেতাকে। পরে প্রথম ধাপের তিন মাসের ওরাল থেরাপি শেষ করে দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নেন তিনি।
ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে জয় জানিয়েছেন, তাঁর বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকেরা সন্তুষ্ট। চিকিৎসায় টিউমারটি অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে। কেমোথেরাপির ধাপ শেষ হওয়ায় এবার নতুন চিকিৎসা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন চিকিৎসকেরা। লন্ডনে পৌঁছানোর পর সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে গত ৩ আগস্ট পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেশে ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার পর চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। গত ৭ আগস্ট রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত নিসচার ১১তম মহাসমাবেশেও অংশ নেন তিনি। আজ তাঁর কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
দেশে ফেরার পর নিজের অনুভূতি জানিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দেশে এসে তিনি অনেকটা স্বস্তি বোধ করছেন। সবার সঙ্গে দেখা করে ও কথা বলে তাঁর ভালো লাগছে। দ্রুত চিকিৎসা শেষ করে দেশে ফিরতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
ছেলে মিরাজুল মইন জয়ও বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর বাবার মুখের হাসিই তাঁর সবচেয়ে বড় আনন্দ। বাবাকে হাসিখুশি দেখে তিনিও ভালো আছেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস