শনিবার (২ মে) ঘোষিত ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য সদস্যরা পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীর স্বাক্ষরে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ৮ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষণার পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২৮ আসামির তালিকায় সুজনের নাম রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলনের দায়ের করা মামলায় তিনি ২৫ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
পদত্যাগকারী নেতাদের দাবি, নেত্রীর ওপর হামলার মামলার আসামির অধীনে রাজনীতি করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণেই তারা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগ করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে এনামুল হক সুজন বলেন, 'তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।'
ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, 'সুজন একজন পরীক্ষিত কর্মী। তাকে ষড়যন্ত্র করে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতারা অবগত আছেন।'
এদিকে, ফেনী পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী বলেন, 'তার মামলার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। এ নিয়ে কমিটির অন্য সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
উল্লেখ্য, তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ ১৭৮ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলাটি ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ফেনী সদর আমলি আদালত আমলে নেয়। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে।