জানা যায়, গত দুইদিন ধরে টাঙ্গাইলে দফায় দফায় ঝড় ও বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে গতকাল ভোর রাত তিনটার দিকে বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টির পর থেকেই ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যুৎ কিছুক্ষণ পরপর বন্ধ ও চালু হচ্ছে, ফলে পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক বিভাগে নির্ধারিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। কয়েকটি বিভাগের পূর্বনির্ধারিত ক্লাস টেস্ট ও ল্যাব কুইজও স্থগিত করা হয়েছে।
রসায়ন বিভাগের ২০২৩-২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান আতিক বলেন, 'গত দুইদিন ধরে ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করা সম্ভব না হওয়ায় আমাদের ল্যাব কুইজ বাতিল করতে হয়েছে।পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে না পারায় একটি ক্লাসটেস্ট ও বাতিল করা হয়েছে। শুধু রসায়ন বিভাগ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই, বিজিইসহ আরও কয়েকটি বিভাগে ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত ক্লাস টেস্ট বাতিল করা হয়েছে।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ বলেন, 'এখন বেশিরভাগ পড়াশোনা মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপনির্ভর। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফোন-ল্যাপটপ চার্জ দিতে পারছি না। ফলে পড়াশোনায় ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।'
এদিকে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প বন্ধ হয়ে গেলে বিভিন্ন হলে পানি সংকট দেখা দেয়। এতে গোসল, খাবার পানি সংগ্রহ এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে চরম দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (তড়িৎ) শাহরিয়ার জামান বলেন, 'ঝড়ের কারণে জাতীয় গ্রিডের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পিডিবির সহায়তায় সেটির রিপ্লেসমেন্ট করা হয়েছে। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।'