পাহাড়ের বৈচিত্র্যে মানবিক ঐক্যের সুর

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩০
বসন্তের বিদায় আর নতুন বছরের আবাহনে মুখরিত হয়ে উঠেছে সবুজ পাহাড়ের প্রতিটি জনপদ। প্রকৃতির রুক্ষতা মুছে নতুন কুঁড়ির আগমনে সেজেছে অরণ্য। ঠিক এই সময়েই পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনে বছরের শ্রেষ্ঠ সময়ের উপভোগ্য উৎসব—বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, চাংলান, চাংক্রান, বৈসু ইত্যাদি চৈত্রসংক্রান্তি ও বর্ষবরণ শুরু হচ্ছে। এ যেন পাহাড়ের বৈচিত্র্যে একই সুতোয় গাঁথা মানবিক ঐক্যের তান, লয় ও সুরের মূর্ছনা।

নামের ভিন্নতা থাকলেও সুর একটাই—মৈত্রী, সম্প্রীতি আর উৎসব। চাকমাদের ‘বিজু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’, তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’, ম্রো ও চাকদের ‘চাংক্রান’। বাঙালির নববর্ষ আর পাহাড়ের এই প্রাণের উৎসব মিলেমিশে একাকার হয়ে পাহাড়ের বুকে তৈরি করেছে এক অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মহোৎসব।

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি আর বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় এখন যেন দম ফেলার সময় নেই। শহরের বনরূপা, তবলছড়ি কিংবা রিজার্ভ বাজার থেকে শুরু করে দুর্গম পাহাড়ের ছোট বাজারগুলোতেও মানুষের উপচে পড়া ভিড়। চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী পিনোন-হাদি, মারমাদের থামি আর ত্রিপুরাদের রিনাই-রিসার দোকানে তরুণ-তরুণীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন এসব পোশাকে এসেছে নতুন নতুন নকশা, যা কেবল পাহাড়িদের নয়, পর্যটকদেরও ভীষণভাবে আকর্ষণ করছে।

শুধু পোশাক নয়, পাহাড়ের বাজারে এখন সুবাস ছড়াচ্ছে বনজ সবজি। চৈত্রসংক্রান্তি আর বর্ষবরণের অপরিহার্য অনুষঙ্গ ‘পাঁজন’ রান্নার জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বাঁশকোঁড়ল, তারা গাল্ল্যা, পাহাড়ি আলু আর হরেক রকমের বুনো সবজি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে উৎসবের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতে।

পাহাড়ি সম্প্রদায়ের এই উৎসব সাধারণত তিন দিনব্যাপী চলে। তবে এর প্রস্তুতি চলে মাসজুড়ে। ১২ এপ্রিল ফুল বিজু ও বৈসু। এ সময় পাহাড়ি হ্রদে ফুল দিয়ে প্রার্থনা করা হয়। অনেকে বলে থাকে ফুল ভাসানো হয়, প্রকৃতপক্ষে চাকমা সম্প্রদায় ফুলকে শ্রদ্ধা করে, প্রণাম করে—একে ভাসায় না, বরং গচ্ছিত করে। ১৩ এপ্রিল, ৩০ চৈত্র বাংলা বর্ষের শেষ দিন, হলো মূল বিজু ও বৈসু। এদিন নতুন কাপড় পরিধান করা হয়। চাকমা সম্প্রদায়ে জুনিয়রদের সেলামি দেওয়া হয় এবং বাড়িতে বাড়িতে পাঁজন রন্ধন (অনেক সবজির সমষ্টিতে বিশেষ খাবার) উৎসব উদযাপিত হয়। ১৪ এপ্রিল নববর্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায় প্রার্থনার জন্য খেয়াং-এ আসেন এবং মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে থাকে।

উৎসবের প্রথম দিনকে বলা হয় ‘ফুল বিজু’। ১২ এপ্রিল ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা পাহাড়ি ঝরনা বা হ্রদের তীরে ভিড় জমায়। তারা ফুল সংগ্রহ করে নদী বা কাপ্তাই হ্রদের শান্ত জলে ফুল সমর্পণ করে প্রার্থনা করে। এটি পুরোনো বছরের গ্লানি মুছে ফেলার এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর এক প্রতীকী আয়োজন। ঘরদোর ফুল দিয়ে সাজানো আর পবিত্র স্নানের মাধ্যমে তারা নতুন দিনকে স্বাগত জানায়। 

লেখক: মো. রেজুয়ান খান

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ সদ্য. সিসিইউতে ভর্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান সদ্য. আজ থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু সদ্য. স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: মীর শাহে আলম সদ্য. ‘শামোন্ডা’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু, ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সদ্য. সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সদ্য. মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. পথের ধারে পিঠা বিক্রি করতে হলেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক সদ্য. উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হলো ভূমিমন্ত্রীকে সদ্য. বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ সদ্য. সিসিইউতে ভর্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান সদ্য. আজ থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু সদ্য. স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: মীর শাহে আলম সদ্য. ‘শামোন্ডা’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু, ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সদ্য. সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সদ্য. মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. পথের ধারে পিঠা বিক্রি করতে হলেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক সদ্য. উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হলো ভূমিমন্ত্রীকে