খাগড়াছড়ির আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তাকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করে আদেশ জারি করা হয়। এরপর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ একটি পোস্ট দেন তিনি।
পোস্টে নিজের পদায়ন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মো. রেজাউল করিম দাবি করেন, দীর্ঘ চাকরিজীবনে একাধিকবার তাকে ‘ডাম্পিং পোস্টিং’-এর মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার ভাষ্য, প্রায় ১৫ বছরের চাকরিজীবনে ৯ বছরই এমন দায়িত্বে ছিলেন। তবে বিষয়টিকে এতদিন গুরুত্ব দেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের কর্মপদ্ধতির প্রসঙ্গ তুলে এই পুলিশ কর্মকর্তা লেখেন, নিয়ম মেনে, সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলে তার বলার কিছু থাকে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ বিভাগে কর্মকর্তাদের ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করা হয় কি না।
রেজাউল করিম আরও অভিযোগ করেন, সত্য কথা বলা, সাহসের সঙ্গে অবস্থান নেওয়া এবং নিয়ম মেনে কাজ করা কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যায় মেনে নেওয়ার চেয়ে সংযুক্ত থাকাকেই শ্রেয় মনে করছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের পোস্টের একটি অংশে পদায়নের কারণ সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে তার পদায়ন নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি সেটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছিলেন।
পরে পুলিশ সদর দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার জবাব দেন বলে দাবি করেন রেজাউল করিম। পরবর্তীতে শেয়ার করা সংবাদটি মুছে ফেললেও তাকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পোস্টের শেষদিকে নিজের হতাশা প্রকাশ করে রেজাউল করিম লেখেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার মনে হচ্ছে হয়তো আর চাকরি করাই হলো না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ এবং পুলিশের কর্মকর্তাদের জন্য শুভকামনাও জানান তিনি।
তবে তার ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগ ও পদায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সদ্য সংবাদ/এসকে