ভয়াবহ দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপালে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চললেও ভারত থেকে পাঠানো কিছু ত্রাণসামগ্রী সীমান্তে আটকে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
নেপালের কয়েকটি এলাকায় দুর্যোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রসুয়া, নুয়াকোট ও চিতওয়ানসহ বিভিন্ন জেলায় বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৭৯০ জনে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে। এখনো দুই হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। জরুরি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষের।
এই পরিস্থিতিতে নেপালের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়েছে ভারত। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক দফায় পাঠানো হয়েছে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম। এসব সহায়তার মধ্যে রয়েছে ওষুধ, খাদ্য, তাঁবু, অস্থায়ী আশ্রয় তৈরির সরঞ্জাম, কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, পানি পরিশোধন ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জেনারেটর।
উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বিশেষায়িত একটি টানেল উদ্ধারকারী দলও নেপালে পাঠিয়েছে ভারত। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে মডুলার স্টিল বেইলি ব্রিজ নির্মাণের সরঞ্জামসহ একাধিক সেতু নির্মাণের উপকরণ পাঠানো হয়েছে। এসব সহায়তা ১৬টি ট্রাক ও চারটি বিমানে নেপালে পৌঁছায় বলে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন ও নাগরিক উদ্যোগেও নেপালে ত্রাণ পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে ভারতীয় পক্ষের দাবি, সীমান্তে পৌঁছানোর পর এসব ত্রাণের কিছু চালান নেপালের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আটকে দেয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকার কারণ দেখিয়ে কয়েকটি চালান নেপালে প্রবেশের সুযোগ পায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলোর অভিযোগ, নেপালের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে বিদেশ থেকে সরাসরি ত্রাণ নিয়ে গিয়ে বিতরণ করার পরিবর্তে নেপালের অভ্যন্তর থেকেই ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে তা বিতরণ করতে হবে। এ ঘটনায় ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তবে নেপালের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দেশটির কাস্টমস বিধি অনুযায়ী, বিদেশি কোনো সহায়তা বা ত্রাণসামগ্রী দেশে প্রবেশ করাতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক বলে দাবি করা হয়েছে।
নেপালের নাগরিক গজেন্দ্র বুদ্ধার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র না থাকায় বেসরকারি পর্যায়ে পাঠানো কিছু ত্রাণসামগ্রী ছাড় করতে পারেনি কাস্টমস। তার দাবি, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা ভারতবিরোধী উদ্দেশ্য ছিল না; বরং প্রচলিত আইন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামোর কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্যোগের সময় বিদেশি সহায়তা ব্যবস্থাপনায় নেপাল সরকার কেন্দ্রীয় তহবিল ও নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। ফলে ব্যক্তিগত বা বেসরকারি উদ্যোগে পাঠানো ত্রাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।
এদিকে ভারতীয় ত্রাণ ফেরত যাওয়ার অভিযোগ এবং নেপালের কাস্টমসের ব্যাখ্যা ঘিরে দুই দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে ত্রাণ আটকে দেওয়ার ঘটনাগুলো মূলত অনুমোদন ও কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস