সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টের হলি কোরআন জাদুঘরে স্থান পেয়েছে কোরআনের ইতিহাসের একটি বিরল নিদর্শন। সেখানে দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে নবম শতকের একটি প্রাচীন কোরআন পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রদর্শিত পৃষ্ঠাটি হিজরি তৃতীয় শতকের একটি কোরআন পাণ্ডুলিপির অংশ। ইসলামী বর্ষপঞ্জির তৃতীয় শতকটি খ্রিষ্টীয় নবম শতকের সময়কালের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে পৃষ্ঠাটিকে কোরআনের প্রাচীন লিখিত নিদর্শনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক এই পাণ্ডুলিপির পাতায় সূরা মারইয়ামের একটি অংশ লিপিবদ্ধ রয়েছে। পার্চমেন্টে লাল কালির ব্যবহারে লেখা হয়েছে আয়াতগুলো। প্রাচীন লিখনপদ্ধতির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এতে বর্তমান আরবি লেখার মতো স্বরচিহ্ন বা হরকত ব্যবহার করা হয়নি। এমনকি অক্ষরের উচ্চারণ ও পার্থক্য বোঝাতে ব্যবহৃত বিন্দুরও কোনো চিহ্ন এতে দেখা যায় না।
গবেষকদের কাছে এ ধরনের পাণ্ডুলিপি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ ইসলামের প্রাথমিক যুগে কোরআনের আয়াত কীভাবে লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা হতো, এই পৃষ্ঠার মাধ্যমে তার একটি ঐতিহাসিক ধারণা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরবি লিপি ও কোরআনের লিখনশৈলীতে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটিও অনুধাবনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মক্কার হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর মধ্যে হলি কোরআন জাদুঘর অন্যতম। কোরআনের ইতিহাস, এর জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য এবং কোরআন লিপিবদ্ধ ও সংকলনের বিভিন্ন পর্যায়কে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরাই এই জাদুঘরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
জাদুঘরের প্রদর্শনীতে শুধু প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উপস্থাপনার মাধ্যমে কোরআনের ইতিহাসকে দর্শনার্থীদের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে।
ইন্টার্যাকটিভ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দর্শনার্থীরা কোরআনের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, এর সংরক্ষণ এবং সময়ের সঙ্গে লিখনপদ্ধতির পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পাচ্ছেন।
নবম শতকের এই বিরল পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা তাই শুধু একটি প্রাচীন লিখিত নিদর্শন নয়; বরং কোরআনের প্রাথমিক লিখন ঐতিহ্য ও আরবি লিপির বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে মক্কার জাদুঘরে দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস