ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) কার্যক্রমের পর নতুন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশিত তালিকায় প্রায় ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ভোটারের নাম পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে মোট নিবন্ধিত ভোটার ১ কোটি ৪৫ লাখ ১০ হাজার ২৯৯ জন। এসআইআর কার্যক্রমের আওতায় তথ্য যাচাই-বাছাই ও ডিজিটাইজেশনের পর প্রায় ৯৭ লাখ ৫০ হাজার ভোটারের তথ্য খসড়া তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ফলে মোট ভোটারের প্রায় ৬৭ দশমিক ১৮ শতাংশের তথ্য এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
যেসব ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের সময় পাওয়া যায়নি কিংবা বিভিন্ন কারণে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তাদের প্রায় ৪৭ লাখ ৭০ হাজার জনকে খসড়া তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, অনুপস্থিতি, অন্যত্র স্থানান্তর, মৃত্যু, একই ব্যক্তির একাধিক নামসহ বিভিন্ন কারণে এসব ভোটারের তথ্য ‘অসংগ্রহযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেও ভোটারদের জন্য নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। দিল্লির প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তা অশোক কুমার জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ভোটাররা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে ফরম-৬ পূরণের মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
এ জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের ভোটার সার্ভিস পোর্টালে প্রবেশ করেও খসড়া তালিকায় নিজেদের নাম রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন।
কমিশনের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর পাওয়া দাবি ও আপত্তিগুলো যাচাই করে নিষ্পত্তির কাজ চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর সংশোধিত তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৪ নভেম্বর।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গত ৩০ জুন থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত দিল্লিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করা হয়। এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনী কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ছিল ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল ও হালনাগাদ করা।
দিল্লির ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রের তথ্য সংগ্রহ ও ডিজিটাইজেশনের চিত্রেও পার্থক্য দেখা গেছে। রোহিনী বিধানসভা কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ৮৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোটারের তথ্য ডিজিটাইজ করা হয়েছে। বিপরীতে তুঘলকাবাদে এ হার ছিল সর্বনিম্ন ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ।
নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের সময় যেসব ভোটারকে পাওয়া যায়নি, তাদের নাম স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। দাবি ও আপত্তি জানানোর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে তারা নিজেদের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করার সুযোগ পাবেন।
ফলে খসড়া তালিকায় বড় সংখ্যক ভোটারের নাম না থাকলেও ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস