জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমসের ইতালি সফর ও কনসার্ট আয়োজনকে ঘিরে তার ম্যানেজার রবিনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন আয়োজকরা। প্রতারণা, অর্থের হিসাব না দেওয়া, অর্থ আত্মসাৎ এবং আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শুক্রবার (২১ আগস্ট) ইতালিয়ান পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, জেমসের ইতালি সফরের অংশ হিসেবে রোম ও ভেনিসে দুটি কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে রোমের অনুষ্ঠানটি ১৬ আগস্ট এবং ভেনিসের কনসার্ট ২২ আগস্ট হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠান দুটির জন্য ভেন্যু, প্রচারণা ও টিকিট বিক্রির কার্যক্রমও শুরু করেছিলেন আয়োজকরা।
আয়োজকদের দাবি, কনসার্ট আয়োজনের বিভিন্ন আর্থিক বিষয় নিয়ে জেমসের ম্যানেজার রবিনের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়। এ সময় অগ্রিম অর্থ প্রদানসহ অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয়ে চুক্তি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ভেনিসের অনুষ্ঠান অন্য একটি পক্ষকে দেওয়ার চেষ্টা এবং রোমের কনসার্ট নিয়েও মতবিরোধ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রোমের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আর্থিক হিসাব নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাদের ভাষ্য, কনসার্টের টিকিট বিক্রির অর্থের একটি অংশ ম্যানেজার রবিনের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা হলেও পরে ওই অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব আয়োজকদের দেওয়া হয়নি।
আয়োজকদের আরও অভিযোগ, অনুষ্ঠানের বিভিন্ন শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি বিরোধের জেরে জেমসকে মঞ্চে না তোলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভিআইপি টিকিট এবং শিল্পীর সঙ্গে ডিনারের আয়োজন নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধের কথা অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে ডিনারে অংশ নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পর্তুগালে জেমসের কনসার্ট আয়োজনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা হয়েছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কনসার্ট শেষ হওয়ার পর আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব চাওয়া হলেও তা তাদের হাতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা ইতালিয়ান পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
এদিকে জেমস ও তার দলের ইতালি ছাড়ার বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, ১৯ আগস্ট সকালে জেমস ও তার টিম হোটেল ত্যাগ করেন এবং বিষয়টি তারা পরে জানতে পারেন।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, কনসার্টের অর্থের একটি অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীরা আরও জানিয়েছেন, জেমসের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছিল এবং তিনি ম্যানেজার রবিনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন বলে তারা দাবি করছেন। তবে এ বক্তব্যের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শুধু ইতালিতেই নয়, পর্তুগালেও জেমসের অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে একই ধরনের আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত বিরোধের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেখানকার আয়োজক পক্ষ থেকেও জেমসের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ভিডিও বার্তা দেওয়ার কথা জানা গেছে।
তবে ম্যানেজার রবিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। জেমসের পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলো নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সদ্য সংবাদ/এসএস