মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলি নির্ধারণ করেছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ পর্যন্ত নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আটটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াকে নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রথমে বিদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে নিয়োগকর্তাকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টারের মাধ্যমে বিদেশি কর্মীর কোটা বরাদ্দের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কোটা অনুমোদনের বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।
কোটা অনুমোদনের পর তৃতীয় ধাপে নির্ধারিত লেভি বা সরকারি ফি পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের বিধান রাখা হয়েছে।
এরপর নিয়োগদাতাকে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। এই প্রক্রিয়াও নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
পঞ্চম ধাপে কর্মী যে দেশ থেকে মালয়েশিয়ায় যাবেন, সেখানে অবস্থিত মালয়েশিয়ান দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
ষষ্ঠ ধাপে অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী নির্বাচন ও মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর সপ্তম ধাপে কর্মীর জন্য ভিসা উইথ রেফারেন্স সংগ্রহ করতে হবে।
সবশেষে নির্ধারিত নিয়ম ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বিদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করবেন। দেশটিতে প্রবেশের মধ্য দিয়েই আট ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য, নিয়ম এবং অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা জানতে মালয়েশিয়া সরকারের নির্ধারিত ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (FWCMS) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির পক্ষ থেকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের নিয়মাবলি প্রকাশ করায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বাজারটি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ থেকে ঠিক কবে কর্মী পাঠানো শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আগের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস