২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের দুই মাসের মাথায় কোচের পদে বড় পরিবর্তন আনল উরুগুয়ে। অভিজ্ঞ কোচ মার্সেলো বিয়েলসার অধ্যায়ের ইতি টেনে জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশটির সাবেক তারকা ফুটবলার দিয়েগো ফোরলানকে। এবার কোচের ভূমিকায় উরুগুয়ের ফুটবলকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ফোরলানের সামনে।
উরুগুয়ের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এউএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, সিনিয়র জাতীয় দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-২০ দলেরও প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন ফোরলান।
২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে চতুর্থ স্থানে তুলে আনার অন্যতম নায়ক ছিলেন ফোরলান।
সেই আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ও জিতেছিলেন তিনি। এবার কোচ হিসেবে নতুন দায়িত্বে দলকে পুনর্গঠনের কঠিন মিশনে নামছেন উরুগুয়ের এই কিংবদন্তি।
এউএফ এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানিয়েছে, ‘দিয়েগো ফোরলান তার ঘরে ফিরছেন।’
প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিতব্য প্রীতি ম্যাচগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফোরলান।
তবে তার পারফরম্যান্স ও দলের অগ্রগতি বিবেচনায় চুক্তির মেয়াদ দীর্ঘমেয়াদে বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পাশাপাশি তুলনামূলক দুর্বল সৌদি আরবের সঙ্গে ১-১ এবং চমক দেখানো কেপ ভার্দের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় বিয়েলসার দল।
মাঝমাঠে ফেদেরিকো ভালভার্দের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স, আক্রমণে দারউইন নুনেসের ব্যর্থতা এবং গোলপোস্টের নিচে ফার্নান্দো মুসলেরার ধারাবাহিকতার অভাব মিলিয়ে বিয়েলসার পরিকল্পনা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। উরুগুয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম হতাশাজনক বিশ্বকাপ অভিযান হিসেবেই এই আসর স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে।
ফোরলানের কোচ হিসেবে প্রত্যাবর্তনে সমর্থকদের মধ্যে যেমন উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে, তেমনি রয়েছে কৌতূহল ও অনিশ্চয়তাও। খেলোয়াড় হিসেবে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে কোচ হিসেবে অভিজ্ঞতা তার খুবই সীমিত।
২০১৯ সালে ৪০ বছর বয়সে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার পরের বছরই মন্তেভিদিওর ঐতিহ্যবাহী ক্লাব পেনিয়ারোলে কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করেন ফোরলান। তবে মাত্র ১১ ম্যাচ পরই বাজে ফলাফলের কারণে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর ২০২১ সালে উরুগুয়ের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এতেনাস দে সান কার্লোসের দায়িত্ব নেন ফোরলান। সেখানে ১২টি ম্যাচে কোচের ভূমিকায় ছিলেন তিনি।
এবার জাতীয় দলের ডাগআউটে ফিরে ফোরলানকে একই সঙ্গে সামলাতে হবে উরুগুয়ের সিনিয়র দল ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব। কিংবদন্তি খেলোয়াড় থেকে জাতীয় দলের কোচ হয়ে ওঠার এই নতুন অধ্যায়ে তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে হতাশাজনক বিশ্বকাপের ধাক্কা কাটিয়ে উরুগুয়েকে নতুন করে গড়ে তোলা।
সদ্য সংবাদ/এসআর