কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা নজরদারিতে আনতে এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে পুলিশ। তালিকা তৈরির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, অবস্থান ও সাংগঠনিক তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ সহজ হবে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন থানা এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও মহিলা লীগের নেতাকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তালিকায় নেতাকর্মীদের নাম, সাংগঠনিক পদ, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নামে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও অন্যান্য কর্মসূচির খবর পাওয়ার পর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর গুলশানে একটি মিছিলের পর ঢাকায় ধারাবাহিক অভিযানে ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানিয়েছিল ডিএমপি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তালিকা তৈরির কাজের সঙ্গে থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা সদস্যরা যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় থাকা নেতাকর্মীদের বর্তমান অবস্থান এবং তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশের সূত্রের ভাষ্য, কেউ কেউ আত্মগোপনে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিভিন্ন অ্যাপের পাশাপাশি টেলিগ্রামসহ অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহারের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো যোগাযোগব্যবস্থাকে দায়ী করেনি।
এদিকে সাম্প্রতিক কয়েকটি নাশকতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি ও গোয়েন্দা তথ্যের অনেক বিষয় এখনো তদন্তাধীন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া ও গ্রেপ্তার অভিযান আগে থেকেই চলমান রয়েছে। নতুন করে সারাদেশে তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরির উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্টদের অবস্থান শনাক্ত এবং মামলাসংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাওয়া।
পুলিশ সদর দপ্তরের ক্রাইম অ্যান্ড অপস বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি সায়েদুর রহমান বলেন, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে তালিকা করা হচ্ছে। এটি পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ এবং তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তালিকা তৈরির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নজরদারি অব্যাহত থাকবে। আইন ভঙ্গের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে