জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) বিবাহিত কলেজ শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নির্বাচিত করার অভিযোগ উঠেছে। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক একেএম আব্দুল্লাহ আল মাসুদের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২২ আগষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। একই চিঠিতে একেএম আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সই করা চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপর থেকেই মাসুদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে। এসব অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, জাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ১৮-১৯ সেশনের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী একেএম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জামালপুর শহরের উইজডম সেন্ট্রাল কলেজের গণিতের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। উইজডম সেন্ট্রাল কলেজের নিয়োগের চিঠিতে দেখা যায় মাসুদ গত অক্টোবরে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়।
মাসুদ ব্যক্তিজীবনে বিবাহিত। ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ছবিতে তাকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের সঙ্গে তার বাসায় দেখা গেছে। ছাত্রলীগের একটি খসড়া কমিটিতেও তার নাম দেখা গেছে। মাসুদের কর্মস্থল উইজডম সেন্ট্রাল কলেজ জামায়াতের নেতাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠান। এসব নিয়ে রীতিমতো বিব্রত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জাবিপ্রবি ছাত্রদলের একমাত্র নারী যুগ্ম আহবায়ক আদিবা হক মিলা বলেন, 'একজন অছাত্র এবং বিবাহিত ব্যক্তি কিভাবে ছাত্রদলের দায়িত্ব পায়? জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একটি প্রগতিশীল সংগঠন সেই সংগঠনের দায়িত্ব পায় জামায়াতের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা বিবাহিত ব্যক্তি।'
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে একেএম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, 'ওই সময় ছাত্রলীগের কিছু বন্ধুদের সঙ্গে তিনি গিয়েছিলেন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার ছাত্রত্ব আছে। আগামী মাসে মাস্টার্স কোর্স চালু হওয়ার কথা। কলেজে যোগদান করার পর এটি জামায়াতের প্রতিষ্ঠান বলে জানতে পারেন। ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর একটি পক্ষ নাখোশ হয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং পরিবার এবং আত্মীয়ের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন।'
সদ্য সংবাদ/এসকে