ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে ক্যাম্পাসে। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চললেও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা যায়নি। এমনকি নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের লকও এখন পর্যন্ত খুলতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের পাশের একটি পুকুর থেকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ভিসেরা প্রতিবেদনে তার মৃত্যুকে শ্বাসরোধজনিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনার চার দিন পর, ৪ আগস্ট নিহতের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় হত্যা মামলা করেন।
পরিবারের আবেদনের পর মামলাটির তদন্তভার পুলিশের কাছ থেকে সিআইডিতে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চললেও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এক পর্যায়ে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে ক্যাম্পাসে একাধিকবার ব্রিফিংও করা হয়। তবে পরে সেই কার্যক্রমও আর চালু থাকেনি।
তদন্তের ধীরগতির মধ্যে চলতি বছরের মে মাসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। আগের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বদলে দায়িত্ব পান মহব্বত হোসেন। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত মামলার জট খোলার মতো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
তদন্তে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাজিদের মোবাইল ফোন। তার মৃত্যুর পর ওই ফোনে কয়েকবার কল রিসিভ হওয়ার তথ্য সামনে আসে। এসব কল কে বা কারা গ্রহণ করেছিলেন, তা নিয়ে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। ঘটনার সূত্র খুঁজতে ফোনটি হেফাজতে নেয় সিআইডি। কিন্তু ১৩ মাসেও সেটির নিরাপত্তা লক ভাঙা সম্ভব হয়নি।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মহব্বত হোসেন বলেন, ফোনটি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে লক খোলার চেষ্টা সফল হয়নি এবং ফলাফল নেতিবাচক এসেছে। তবে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করে বিকল্প প্রযুক্তিগত পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও জানান, মামলাটি বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ও পারিপার্শ্বিক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে দীর্ঘ তদন্তেও প্রশ্নগুলোর উত্তর না মেলায় সাজিদের সহপাঠী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তাদের দাবি, শুধু ফোনের তথ্য নয়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব সম্ভাব্য সূত্র দ্রুত যাচাই করে মামলার রহস্য উদঘাটন করা হোক।
সদ্য সংবাদ/এসএস