কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অর্থনীতি বিভাগের এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে হলে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে র্যাগিং ও মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমির হোসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ৩১২ নম্বর কক্ষে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগে অর্থনীতি বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু দাস, মোহাম্মদ হাসান ও সরোয়ার হোসেন রিয়াদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতে তাকে ও আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সিনিয়র এক শিক্ষার্থীর কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এ সময় গালিগালাজ, ভয় দেখানো এবং বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই রাতে আমির লুঙ্গি পরা অবস্থায় কক্ষে যাওয়ায় তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বারবার ক্ষমা চাইলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীর। পরে একপর্যায়ে তিনি ওই কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন আমির। তিনি জানান, পারিবারিক ও আর্থিক চাপের মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনার পর ক্ষোভের বশে অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থীকে ফোনে হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন তিনি।
এদিকে, ওই ফোনকলের ঘটনায় অন্তু দাস থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, জিডির বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে তারা র্যাগিংয়ের অভিযোগের কথাও জানতে পারে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই জিয়াউর রহমান বলেন, অন্তু দাসের করা জিডিতে ফোনে হত্যার হুমকির অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে আমির হোসেনের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি র্যাগিংয়ের অভিযোগের বিষয়টি জানান। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংও করা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছিল। তবে প্রক্টর দপ্তরে নতুন করে অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে অন্তু দাস ও মোহাম্মদ হাসান র্যাগিংয়ের ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, অভিযোগটি সঠিক নয়। অন্তু দাস বলেন, বরং ওই শিক্ষার্থী তাদের কক্ষ থেকে যাওয়ার সময় অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি করার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে, সরোয়ার হোসেন রিয়াদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, বিষয়টি তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি তদন্ত কমিটি গঠন করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান জানান, লিখিত অভিযোগটি তারা পেয়েছেন। অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাগিংয়ের অভিযোগ, পাল্টা হুমকি এবং থানায় জিডির বিষয়টি ঘিরে ঘটনাটি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস