গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, গোবিপ্রবি শাখা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের মুক্তমঞ্চে এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ছাত্র অধিকার পরিষদের গোবিপ্রবি শাখার সভাপতি সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ডা. কে এম বাবর। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি নাজমুল হাসান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আহসান সৌরভ, ছাত্র উপদেষ্টা গাজী মোহাম্মদ মাহবুব, ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী তোহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, গোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের গোবিপ্রবি শাখার সহসভাপতি মোহাম্মদ হাবিবসহ ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এবং গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবরকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন বিএনসিসির সদস্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, “গোপালগঞ্জ শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্যিকদের জন্য বিখ্যাত। শামসুল হক ফরিদপুরী থেকে শুরু করে সাংবাদিক নির্মল সেন, সুকান্ত ভট্টাচার্যসহ একাত্তরের বিপ্লবী নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থানও এই গোপালগঞ্জ। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে নিজের জীবন নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশের আইন যদি কোনো সংগঠনকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করে, সেখানে আমরা চাইলেও তা উপেক্ষা করতে পারব না।”
তিনি আরও বলেন, “গোপালগঞ্জের মানুষের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, মৌলিক অধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে আজ আমি কথা বলব। আমাদের ধারণা ছিল, গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় অনেক উন্নত। কিন্তু এখানে এসে সে ধরনের উন্নয়ন দেখতে পাইনি। শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো অডিটোরিয়াম নেই, একটি মাত্র একাডেমিক ভবন—শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন কিছুই হয়নি। সবশেষে নবীন শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও মঙ্গল কামনা করছি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম যে ছাত্রসংগঠন তাদের কমিটি প্রকাশ করেছে, সেটি ছাত্র অধিকার পরিষদ। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার নির্বাচনী এলাকার মধ্যে। বিগত সরকার ২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের সময় বাড়িয়ে টেন্ডারের টাকা লুটপাট করলেও ক্যাম্পাসের তেমন কোনো উন্নয়ন করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় উন্নয়নে আমি আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।”
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নিজেদের ক্যারিয়ার ঠিক রেখে ক্যাম্পাসে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট ঢুকতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। গুপ্ত সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে প্রকাশ্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে মিশতে হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুন্নয়নের বিষয়টি ক্যাবিনেট সভায় তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রী নুরুল হক নুরের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।”
উদ্বোধকের বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আমার প্রাণপণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন ৫৫ থেকে ২০০ একরে বাস্তবায়ন করা হবে। আমি আজকের ইউজিসির জরুরি মিটিংয়ে উপস্থাপন করেছি। আর আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক সংকট ছিল, সেটাও আমরা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। আগামী ৬ মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।”
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সদ্য সংবাদ/ এআর