নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) গোমতী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের পর বাসচালককে মারধর ও বাসের লুকিং গ্লাস ভাঙচুরের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নোয়াখালীর সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার দুজন মোটরসাইকেলের আরোহী। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনায় বাসচালক দিলীপ রবি দাস আহত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মোটরসাইকেলের দুই আরোহী তাঁকে মারধর করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটির একটি লুকিং গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী সকালে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস থেকে কবিরহাটের উদ্দেশে গোমতী বাস নিয়ে রওনা হন চালক দিলীপ রবি দাস। বাসটি সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে তিনি ইন্ডিকেটর দিয়ে বাসটি ঘোরাচ্ছিলেন। এ সময় কবিরহাটের দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে এসে বাসটির পেছনের দিকে আঘাত করে।
এ নিয়ে বাসচালক মোটরসাইকেল আরোহীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন চালক। পরে বাসটির একটি লুকিং গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়।
বাসচালক দিলীপ রবি দাস বলেন, ‘আমি প্রায় ১২–১৩ বছর ধরে নোবিপ্রবিতে গাড়ি চালাচ্ছি। সকালে কবিরহাট যাওয়ার পথে সোনাপুর জিরো পয়েন্টে বাস ঘোরানোর সময় আমি ইন্ডিকেটর দিয়েছিলাম। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল বাসের পেছনের চাকার কাছে এসে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে কথা বলতে গেলে মোটরসাইকেলের একজন আরোহী আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ ও গালাগাল করেন। পরে আমাকে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়। আমি বাস থেকে নামার পর ওই ব্যক্তি চাবি দিয়ে আমার মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন এবং লাথি মারেন।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকার টোল আদায়কারী সুমন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি ইন্ডিকেটর দিয়ে সড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় কবিরহাটের দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটি অতিরিক্ত গতিতে এসে বাসের চাকার সঙ্গে ধাক্কা দেয়। পরে মোটরসাইকেলের আরোহীরা বাসচালকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।’
সুমন বলেন, ‘একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের আরোহীরা বাসচালককে নিচে নামতে বলেন। তিনি নামার পর তাঁকে ঘুষি মারা হয়। পরে বাসের হেলপারকেও মারধর করা হলে তিনি ভয়ে বাসের ভেতরে উঠে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা অপর ব্যক্তি বাসটির একটি লুকিং গ্লাস ভেঙে ফেলেন।’
ঘটনার পর বাসচালক দিলীপ রবি দাস বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ করেন।
নোবিপ্রবি পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘যেটা ঘটেছে, সেটা আসলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চালক ও হেলপারের ওপর হামলা হয়েছে, এটা দুঃখজনক। যারা হামলা করেছে, তাদের যেন বিচার হয়, সে জন্য আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।’
নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একজন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
সদ্য সংবাদ/ এআর