ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফলাফল ও ইউজিসি বৃত্তির মনোনীত তালিকা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিভাগীয় সেশনজট ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে এর প্রভাব পড়েছে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনের ওপর। জীববিজ্ঞান অনুষদে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেও ইউজিসি বৃত্তি থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মেধার স্বীকৃতি হিসেবে আসন্ন ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এই শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়টি অনুষদের সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ইউজিসি বৃত্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর মধ্যে জীববিজ্ঞান অনুষদে সর্বোচ্চ ৩.৯০ সিজিপিএ পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তবে পরীক্ষার সময়সীমা ও ফল প্রকাশের তারিখ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করে ফল প্রকাশ করলেও জীববিজ্ঞান অনুষদের বিভাগীয় সেশনজট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পরীক্ষা শুরু হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে।
এর আগে ইউজিসির দেওয়া নোটিশে ২০২৫ সালের মধ্যে ফল প্রকাশের শর্ত দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ও অনুষদের প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় এখন নীতিমালার কথা বলে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বৃত্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিনের কাছে লিখিত অভিযোগ ও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন মামুন।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বিভাগের সেশনজট ও প্রশাসনিক বিলম্বের পেছনে শিক্ষার্থীর কোনো ব্যক্তিগত ত্রুটি বা অবহেলা ছিল না। প্রশাসনিক কারণে সৃষ্ট এই বিলম্বের দায় শিক্ষার্থী কেন বহন করবেন এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, সেশনজটের দায় অনুষদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
মামুন আরও বলেন, নীতিমালার কথা বলে তাঁকে বাদ দিয়ে পরবর্তী অবস্থানে থাকা কাউকে সুবিধা দেওয়া হলে তা মেধার অবমূল্যায়ন ও অন্যায় হবে।
বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়সংগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন এবং দ্রুত প্রশাসনিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলী সাবিনা আজহার বলেন, ইউজিসির নোটিশে ২০২৫ সালের মধ্যে অনার্স শেষ করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে শুধু শিক্ষাবর্ষের কথা বলা হয়নি। তাই ভবিষ্যতে ইউজিসি একইভাবে বৃত্তি দিলে তাঁর সুযোগ থাকতে পারে। তিনি বলেন, এটি ইউজিসির নীতিমালা। ইউজিসি যেভাবে নোটিশ দিয়েছে, সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ বলেন, তিনি ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি উচ্চতর সিদ্ধান্তের জন্য আগামী শনিবার রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে নোটিশ আকারে পাঠাবেন। কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই চূড়ান্ত হবে।
সদ্য সংবাদ/ এআর