জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ভোররাতে সন্দেহজনক অবস্থায় তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগতকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের (ডব্লিউআরসি) পাশের জঙ্গল থেকে বের হওয়ার সময় তাদের আটক করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
আটক পাঁচজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও তিনজন নারী। শিক্ষার্থীরা তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে করে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, রাতের শেষভাগে ডব্লিউআরসি সংলগ্ন জঙ্গল থেকে পাঁচজনকে একসঙ্গে বের হতে দেখা যায়। এ সময় তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীও ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেলেও তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
আটক ব্যক্তিদের কাছে জঙ্গলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তাদের দেওয়া বক্তব্যে মিল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। পরিচয় নিয়েও তাদের বক্তব্যে অসংগতি দেখা যায়। পরে তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, সেখান থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পাওয়া গেছে।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্যরা আটক ব্যক্তিদের সিকিউরিটি কন্ট্রোলরুমে নিয়ে যান। সেখানে তাদের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিষয়টি জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকেও।
জাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম বলেন, ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জঙ্গল এলাকা থেকে তিন নারী ও দুই পুরুষ বহিরাগতকে আটক করা হয়। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের হওয়ায় বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পাঁচজনকে থানায় নিয়ে যায়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা থানায় এলে প্রয়োজনীয় মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস