গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) একটি হলের সামনে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে দুটি ককটেল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে হল গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে ককটেল বিস্ফোরণে কোনো শিক্ষার্থী হতাহত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি এসে হল গেটসংলগ্ন লিপুস ক্যান্টিনের সামনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দিকে পরপর দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে। একটি ককটেল গাছে আঘাত লেগে হল গেটের সামনের অংশে পড়ে। অন্যটি হলের ভেতরে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গার কাছাকাছি গিয়ে বিস্ফোরিত হয়।
ঘটনার পরপরই মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
হল গেটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য জানান, দুই ব্যক্তিকে অন্ধকারের কারণে স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হয়নি। তবে তারা মোটরসাইকেলে করে ঘোনাপাড়া দিক থেকে এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ককটেল ছোড়ে। তার মতে, মোটরসাইকেলটির রং লালচে-খয়েরি ছিল। হামলার পর তারা যে পথ দিয়ে এসেছিল, সেদিকেই ফিরে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক নাহিদুর রহমান সাকিব বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আড্ডার জায়গায় এভাবে ককটেল নিক্ষেপ উদ্বেগজনক। তার দাবি, আগের হামলার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না হওয়ায় হামলাকারীরা আবারও এমন ঘটনার সাহস পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলাম বলেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে আগে থেকেই নিরাপত্তা টহল চলছিল। স্থানীয় তিন সংসদ সদস্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কথা থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তারা ক্যাম্পাসে নজরদারি করছিলেন। ককটেল নিক্ষেপের খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি অস্থায়ী পুলিশ বক্স স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাতভর সেখানে পুলিশি টহল জোরদার করা হবে।
ঘটনার পর গোবিপ্রবি ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস