গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) একাডেমিক ভবনের মুক্তমঞ্চে দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেওয়া হয়।
সকাল ১১টার দিকে শান্তির প্রতীক পায়রা ওড়ানো এবং বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান এবং গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. গোলাম মোর্শেদ মোল্যাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নবীনদের উদ্দেশে প্রধান অতিথি মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পেছনে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পরিশ্রম রয়েছে। এখন তাদের সামনে নতুন দায়িত্বের পালা। সময়কে গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে তিন সংসদ সদস্য একসঙ্গে কাজ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
শিক্ষকদেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে গোবিপ্রবি ভবিষ্যতে আরও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বিশেষ অতিথি এস এম জিলানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে তারা সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন। আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবন নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষক সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে যেন ক্যাম্পাসের পরিবেশ অস্থিতিশীল না হয়।
গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, গোবিপ্রবিতে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে এবং সেগুলো সমাধানে সময় প্রয়োজন। নতুন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তিন সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে ঘটে যাওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান নবীনদের লক্ষ্য ঠিক করে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেকে বিসিএস ক্যাডার ও বিচারকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
উপাচার্য জানান, একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যারিয়ার পরিকল্পনাও শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন এবং অডিটোরিয়াম নির্মাণে সরকারের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. মো. কামরুজ্জামান এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ও এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন ড. মাহবুব হাসান।
দিনের আয়োজনে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক জীবনের শুরুতেই নবীনদের নিয়ে এ আয়োজন ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
সদ্য সংবাদ/এসএস