নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ও বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (নোবিপ্রবি) সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক ‘গ্রিন ডায়ালগে’ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ১০০ একর আয়তনের বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এ ব্যয় কমাতে সৌরবিদ্যুৎ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তত্ত্বাবধানে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০০ বর্গফুটের একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থা থেকে বছরে প্রায় ২৩ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। দৈনিক গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ হবে প্রায় ৬৩ ইউনিট।
উপাচার্য আরও জানান, এ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে তিন টাকা। অন্যদিকে, প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০ টাকা।
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে পুরো ক্যাম্পাসকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় অনেকাংশে কমানো যাবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে টেকসই ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পথও সুগম হবে।
এ সময় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই অর্থনীতির রূপরেখা প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। এতে দেশের জলবায়ু, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সদ্য সংবাদ/ এআর