রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন এক নির্মাণশ্রমিক। মঙ্গলবার বিকেলের ওই দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির চালকের আসনে এক কিশোরকে দেখা গেলেও মামলায় চালক হিসেবে আকাশ মার্কের (৪৪) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে আকাশ পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত মেহেদী হাসান (২৪) নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার পর স্থানীয়রা মেহেদীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে বেপরোয়া গতির গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে চাপা দেয়।
এ ঘটনায় বুধবার নিহতের বড় ভাই মুক্তাদির ইসলাম (২৮) গুলশান থানায় মামলা করেন। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গাড়িটি আকাশ বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তাঁর মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে।
তবে দুর্ঘটনার সময় চালকের আসনে থাকা কিশোরের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। কেন তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তা জানতে মামলার বাদী মুক্তাদির ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় লোকজন চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন বলেন, নিহতের ভাই আকাশকে গাড়ির চালক হিসেবে উল্লেখ করে মামলা করেছেন। আটক কিশোরের বিষয়ে তিনি বলেন, মামলায় তার নাম নেই। তবে পুলিশ হেফাজতে থাকা ওই কিশোরের জড়িত থাকার প্রমাণ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
পুলিশের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আটক কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ও-লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।
সিসিটিভি ফুটেজে কিশোর চালক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে চালকের আসনে ওই কিশোরকে দেখা যায়। ফুটেজ অনুযায়ী, গাড়িটি মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর সড়কের পাশের একটি ল্যাম্পপোস্টে জোরে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়।
এরপর গাড়ির ভেতর থেকে দুজনকে বের হতে দেখা যায়। চালকের পাশের ডান দিকের দরজা দিয়ে কালো টি-শার্ট পরা কিশোরটি বের হয়। গাড়ির অন্য পাশ দিয়ে শার্ট পরা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি বেরিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনার পর গাড়ির আশপাশে লোকজন জড়ো হলেও ওই দুজন সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পরে কিশোরটিকে হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
সদ্য সংবাদ/ এআর