রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা ইন্ধন ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি জানান তিনি। তার বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা কোনো দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, রাড্ডা ক্লিনিকের মতো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় কোনো পক্ষের পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে জামায়াত বা আওয়ামী লীগের কোনো ধরনের ইন্ধন ছিল কি না, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে হামলায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তুলি জানান, টিকাদান কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য মিরপুর-১-এর রুহানী টাওয়ারে থাকা একটি কার্যালয়ে সাময়িকভাবে সেবা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের করা মামলায় একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনায় শনিবার চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তবে হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক কোনো পক্ষের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। একইভাবে আলোচনায় আসা বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার বিষয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস