রাজধানীর মিরপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিককে পুলিশ সদস্যরা লাঞ্ছিত ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বরের আল বারাকা রেস্টুরেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী সাংবাদিক মো. রবিউল ইসলাম রুবেল জানান, সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) বাশারের নেতৃত্বে হকার উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। এ সময় মিরপুর মডেল থানার এসআই আল-আমিন তালুকদার ও কয়েকজন কনস্টেবল কোনো কারণ ছাড়াই তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। নিজের প্রেস আইডি কার্ড দেখানোর পরও এসআই আল-আমিন অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং জোর করে তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সাউন্ড ডিভাইস মাটিতে পড়ে হারিয়ে যায়।
ঘটনার বিবরণে সাংবাদিক রুবেল আরও অভিযোগ করেন, এসি বাশার তাঁকে চেনেন বলে জানালেও এসআই আল-আমিন তালুকদার তাঁর সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ অব্যাহত রাখেন। পরে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ ঘটনাস্থলে এসে রুবেলের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যদের সরে যেতে বলেন।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নির্দেশের পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। এসআই আল-আমিনের উপস্থিতিতেই কয়েকজন কনস্টেবল পেছন থেকে সাংবাদিক রুবেলের ওপর হামলা চালান এবং তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রুবেল। অভিযোগে এসআই আল-আমিনসহ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় ও মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, লিখিত অভিযোগটি পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: ভিওডি বাংলা
সদ্য সংবাদ/ এআর