রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোরের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কিশোরের পক্ষে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান। তিনি আদালতে দাবি করেন, ঘটনার দিন চালক কৌশলে গাড়িটি বাঁ পাশ দিয়ে বের করে নেন এবং অভিযুক্ত কিশোর নির্দোষ। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার বিষয়টিও আদালতে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের সময় নিহত নির্মাণশ্রমিকের বাবা ও ভাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান বলেন, অভিযুক্ত একজন শিশু এবং সে জামিন পাওয়ার অধিকার রাখে। এ সময় বিচারক জানতে চান, কিশোরটি কত দিন ধরে কারাগারে রয়েছে। জবাবে আসামিপক্ষ জানায়, তাকে ১২ দিন ধরে হাজতে রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। অভিযুক্তের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না এবং গাড়ি চালানোর অনুমতিও তার ছিল না। তাই তাকে জামিন দেওয়া হলে আপত্তি রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় বিচারক প্রশ্ন করেন, শিশুর আবার ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার বিষয়টি কীভাবে প্রযোজ্য। জবাবে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, গাড়ির চালকের আসনে ওই কিশোর ছিল না।
শুনানিতে সিসিটিভি ফুটেজের প্রসঙ্গও আসে। বিচারক বলেন, ফুটেজে ওই কিশোরকে সেখান থেকে বের হতে দেখা গেছে। এমন অবস্থায় তাকে জামিন দেওয়া হলে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মতো ঘটনায়ও পার পেয়ে যাওয়ার বার্তা সমাজে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আদালত আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জামিন দেওয়া হলে অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে আইন ও বিচারব্যবস্থাকে বিত্তবান ও শিশুদের কাছে সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন বিচারক।
পরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষ হলে আদালত কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।
সদ্য সংবাদ/ এআর