রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় দেহব্যবসার প্রচারণায় ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন ভিজিটিং কার্ড এমন অভিযোগ উঠেছে। বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে টার্মিনালে যাওয়ার ফুটওভারব্রিজ, আশপাশের ফুটপাতসহ জনসমাগমপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় আবাসিক হোটেল ও কথিত যৌনসেবার প্রচারণামূলক কার্ড। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় প্রকাশ্যে এমন প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে।
সরেজমিনে চিত্র ধারণের সময় সদ্য সংবাদ টিমের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক ব্যক্তির পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিমানবন্দর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কর্মচারী। ক্যামেরা দেখে প্রথমে মুখ আড়াল করার চেষ্টা করেন তিনি। পরে টিমের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গেঞ্জি ও ভিজিটিং কার্ড ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে প্রকাশ্যে কথিত যৌনসেবার প্রচারণামূলক কার্ড বিতরণ বা ফেলে রাখার অভিযোগ শুধু জনদুর্ভোগই নয়, নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কারা গ্রাহক সংগ্রহ করছে, কোন কোন প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে যুক্ত এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
শুধু বিমানবন্দর এলাকাতেই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাত ও ফুটওভারব্রিজেও এ ধরনের কার্ড ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। জনবহুল স্থানে এভাবে প্রচারণা চালানোর সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে সাধারণ মানুষের।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কার্ড বিতরণকারীদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে কথিত যৌনসেবা ও দেহব্যবসার প্রচারণার আড়ালে কোনো অপরাধ, প্রতারণা বা মানবপাচারের ঘটনা ঘটছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দেহব্যবসার প্রচারণার অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা শনাক্ত এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সদ্য সংবাদ/এসএস