দীর্ঘ দেড় দশকের রাজপথের ত্যাগ, সংগ্রাম, হামলা-মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বোরহান উদ্দিন ইশরাক।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রচার সম্পাদক ইশরাক দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের কারণে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর মূল্যায়নের দাবি উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।
২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন ইশরাক। এরপর থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাভোগের মুখোমুখি হন তিনি।
বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবি করেছেন বোরহান উদ্দিন ইশরাক।
২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৯ জুলাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে রাজধানীর মাতুয়াইলে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় দ্বিতীয়বার গুলিবিদ্ধ হন তিনি।
একই বছরের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় দলীয় কার্যালয়ের সামনে তৃতীয়বার গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা জানান তিনি।
সবশেষ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন ইশরাক। তাঁর দাবি, আন্দোলনের শুরু থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তিন দফায় প্রায় নয় মাস কারাভোগ করেছেন বলেও তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি থেকে হাইকোর্টের সামনে গ্রেপ্তার হন তিনি বলে জানানো হয়।
পরের বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি কারামুক্তির পর কাশিমপুর কারাগারের ফটক থেকে তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি ।
২০২১ সালের ২৮ জুন রাজধানীর কাকরাইলে বিক্ষোভ মিছিল থেকে গ্রেপ্তার হয়ে রমনা থানার মামলায় কারাগারে যান ইশরাক। পরে প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পান বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ও কারাভোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে ইশরাকের। তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।
এছাড়া ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসক্লাব এলাকা, ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং ২০২৩ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হামলায় আহত হন বলে জানিয়েছেন তিনি ।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন ইশরাক। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগকে সামনে রেখে এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়নের প্রত্যাশা করছেন তাঁর অনুসারীরা।
তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের একাংশের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বে বোরহান উদ্দিন ইশরাককে মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও গতিশীল হবে।
আগামী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটিতে তাঁকে যোগ্য পদে মূল্যায়ন করা হবে এমন প্রত্যাশাই করছেন তাঁর অনুসারী ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
সদ্য সংবাদ/এসকে