বাস শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং মহাসড়কে মাহিন্দ্রা চলাচল বন্ধের দাবিতে বরিশালে ফের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসহ জেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর থেকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি স্থানীয় রুটের যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। হঠাৎ পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টার্মিনাল ও সড়কের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছেন যাত্রীরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বরিশালের রহমতপুর এলাকায় একটি বাসের চালক ও সহকারীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে নথুল্লাবাদ এলাকায় অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। হামলায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। আহতদের একজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে না। একই সঙ্গে মহাসড়কে মাহিন্দ্রা চলাচল বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানান, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন চালানো সম্ভব নয়। হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মহাসড়কে অনুমোদনহীনভাবে মাহিন্দ্রা চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে সোমবার বাস ও মাহিন্দ্রা শ্রমিকদের বিরোধকে কেন্দ্র করে বরিশালের বিভিন্ন সড়কে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হলেও একদিনের ব্যবধানে নতুন করে হামলার অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিরোধ নিরসনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানানো হয়েছে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক যাত্রী টার্মিনালে এসে বাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বিকল্প পরিবহনের সন্ধান করছেন। দ্রুত বিরোধের অবসান ঘটিয়ে বরিশালের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সদ্য সংবাদ/এসএস