সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে স্বামীকে হারিয়ে চার সন্তান নিয়ে চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছেন জহুরা বেগম। সংসারে নিয়মিত খাবারের জোগান নেই, নেই শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ব্যবস্থা। অভাবের তাড়নায় ছোট শিশুর কান্না থামাতেও কখনো কখনো লবণ মেশানো পানি দিতে হচ্ছে তাকে।
উপজেলার বানিয়াগাঁতী সাহাপাড়া এলাকায় ছোট্ট ঘরেই সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন জহুরা। স্বামী ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজ নলকা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে স্ট্রোকে তার মৃত্যু হলে পরিবারের ওপর নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা।
স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে মানুষের বাড়িতে কাজ শুরু করেন জহুরা। সেই আয়ে যা পান, তা দিয়ে কোনোভাবে সন্তানদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। অনেক সময় প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পাওয়া চালই হয়ে ওঠে পরিবারের একমাত্র ভরসা। কখনো রান্নার চুলা জ্বলে না, আবার কখনো শুধু ভাত-লবণ খেয়েই দিন পার করতে হয় তাদের।
পরিবারের সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স দুই বছর। শিশুটির জন্য দুধ কেনার সামর্থ্য নেই মায়ের। ক্ষুধায় কান্না শুরু করলে তাকে শান্ত করতে বাধ্য হয়ে পানি ও লবণ খাওয়ানোর কথা জানান জহুরা। সন্তানের এমন কষ্ট দেখে অসহায় এই মায়ের চোখে নেমে আসে অশ্রু।
জহুরার পরিবারে দারিদ্র্যের পাশাপাশি রয়েছে ঋণের বোঝাও। স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে বাড়ির জন্য কিছু জমি কিনেছিলেন। তার মৃত্যুর পর সেই ঋণের দায়ও এসে পড়েছে জহুরার ওপর। অভাবের কারণে বড় ছেলে সংসার ছেড়ে চলে গেছে। আর মেজো ছেলে জিহাদ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। ভবিষ্যতে আলেম হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও অর্থের অভাবে তার পড়াশোনাও অনিশ্চয়তার মুখে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তারা পরিবারটিকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। তবে পাঁচ সদস্যের সংসারের নিয়মিত খাবার, পোশাক ও শিশুদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের জন্য এই সহায়তা যথেষ্ট নয়।
এ অবস্থায় জহুরা বেগম ও তার সন্তানদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, দাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটি অন্তত অনাহার ও চরম অনিশ্চয়তা থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস