মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি বাসায় চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি যাওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির পাওয়া নগদ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালকিনি বাজারের একটি জুয়েলারি দোকানেও অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চোরাই বলে সন্দেহ করা বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলা এলাকার জান্নাতুল হুসনা বর্তমানে ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। গত ২৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ২৮ আগস্ট সকাল ৯টার মধ্যে কোনো এক সময় তাঁর স্বামীর তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনা ঘটে।
চোরেরা ভবনের ব্যালকনি ও জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। পরে তারা বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণ ও রুপার গয়না নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে গলার হার, টিকলি, আংটি, রুলি, লকেটসহ চেইন, কানের দুল, পাশা, নাকফুল, ব্রেসলেট ও রুপার নুপুর ছিল।
খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। একপর্যায়ে চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মো. সুজন সরদারকে শনাক্ত করে পুলিশ।
পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কালকিনি উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে সুজনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ আরও জানায়, সুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর বসতঘরে অভিযান চালিয়ে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির নগদ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত দুটি সেলাই রেঞ্জ, হাতুড়ি, প্লাস, ১২ নম্বর গুডি রেঞ্জ, ১৫ নম্বর ডালি ও গুডি রেঞ্জ এবং একটি সুইচ গিয়ার চাকু জব্দ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে সুজনের তথ্যের ভিত্তিতে কালকিনি বাজারের বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, ওই দোকানের মালিক এনামুল হক সেখান থেকে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার বের করে দেন। অভিযানে একটি ছেঁড়া স্বর্ণের গলার হার, এক জোড়া কানের দুল, একটি টিকলি, একটি ব্রেসলেট এবং গলিত স্বর্ণের একটি টুকরা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ৩০ আগস্ট কালকিনি থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪৫৪, ৩৮০ ও ৪১১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার নম্বর ২৩।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চুরির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস