সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটিতে ঘটনাটির জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের দায়ী করার পাশাপাশি পুলিশের উপস্থিতির কথাও বলা হয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াতে ইসলামী।
জানা গেছে, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল ইসলাম রোববার রাতে তার ফেসবুক পেজে ঘটনাটি নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। পরে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর আগের ভিডিওর একটি অংশ আবার প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিওতে স্থানীয় কয়েকজনের কথোপকথনের মাধ্যমে সয়দাবাদ বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার দাবি করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পুলিশের একটি গাড়ি থাকার কথাও উঠে আসে।
তবে ভিডিওটির বক্তব্যের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমানে তার ফেসবুক পেজে থাকা ভিডিওতে পুলিশ বা জামায়াতের বিষয়ে তার নিজের কোনো বক্তব্য নেই। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
নাজমুলের ভাষ্য, স্থানীয় দোকানদারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। তার দাবি, ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলের বিপরীত পাশে পুলিশের একটি গাড়ি থাকার কথা তিনি শুনেছেন। তবে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের লোকজন সেখানে এসেছিল—এমন বক্তব্য তিনি দেননি বলেও জানান।
এদিকে সয়দাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানান তিনি।
নাজমুল ইসলামের প্রকাশ করা ভিডিও প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিওতে ছাত্রদল নেতা কেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলেও জানান।
অন্যদিকে পুরো অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সম্প্রতি লংমার্চকে কেন্দ্র করে জামায়াতের দুই নেতাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে এবং এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। তার দাবি, ওই মামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বিএনপির লোকজন নিজেরাই কার্যালয়ে আগুন দিয়ে জামায়াতের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।
জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকটি পোস্টারে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। তার দাবি, জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত নন।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের বিষয়ে তিনি শুনেছেন। তবে নাজমুল ইসলামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে পুলিশ এমন কোনো ভিডিও দেখতে পায়নি, যেখানে পুলিশ বা জামায়াতকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস