চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাইয়ের বিরুদ্ধে দখল, হামলা, গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন এক নারী। নিজের ভাই খায়রুল বাশার শামীমের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মিরসরাই প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মোছাম্মৎ শামিমা আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শামিমা আক্তার দাবি করেন, তার বাবা মরহুম খায়েজ আহাম্মদ জীবিত থাকা অবস্থায় ১ একর ১৫ শতক জমি তাকে হেবা ঘোষণা করে দেন এবং জমিটির দখলও বুঝিয়ে দেন। বাবার দেখাশোনা ও পারিবারিক বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করায় ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের কথা বিবেচনা করে তাকে ওই সম্পত্তি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
শামিমার ভাষ্য, হেবা ঘোষণার পর তিনি জমিটির নামজারি করেন এবং নিয়মিত সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তিটি তার ভোগদখলেও ছিল। কিন্তু তিনি সন্তানদের নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করার সুযোগে তার ভাই ওই জমি দখলে নিয়ে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করেন।
সম্প্রতি জমিতে গিয়ে নিজের দখল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলে ভাই, তার স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে হামলা এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ তোলেন শামিমা। এ ঘটনার পর তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, পরে তিনি জানতে পারেন, ওই জমিতে তার প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করতে তার ভাই আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় চলমান কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্পত্তির ওপর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান রয়েছে উল্লেখ করে শামিমা বলেন, তিনি কোনোভাবেই আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চান না। একই সঙ্গে জমির হেবা, নামজারি ও রাজস্ব পরিশোধের নথিসহ সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র যাচাই করে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের আহ্বান জানান।
শামিমা আক্তার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আদালতের কাছে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি করেন। তার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শামিমার বোন মল্লিকা বেগম, ভাগনি লুৎফুন নাহারসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
শামিমার অভিযোগের বিষয়ে খায়রুল বাশার শামীম বলেন, তাদের বাবার মৃত্যুর সময় শামিমা দেশে ছিলেন না। বাবার মৃত্যুর পর দেশে ফিরে তিনি বাবার পুরো সম্পত্তি নিজের বলে দাবি করেন বলে তার অভিযোগ।
খায়রুল বাশারের দাবি, বাবার সম্পত্তিতে অন্য ওয়ারিশদেরও অধিকার রয়েছে। তাদের অজ্ঞাতে প্রতারণার মাধ্যমে জমিটি হেবা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ হেবা ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ওই সম্পত্তির বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে বলে জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস