খুলনা নগরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিল থেকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলমের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর বাড়ির সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর টুটপাড়া মওলা বাড়ির সামনে ইসলামীয়া রোডে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
মঞ্জুরুল আলম জানান, ঘটনার সময় তিনি নিজ বাসায় ছিলেন। বাইরে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শুনে তিনি বেরিয়ে মিছিলটি দেখতে যান। তখন মিছিলের একজন তাঁকে সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। পরে বাসায় ফেরার সময় মিছিল থেকে তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মিছিলকারীরা তাঁর বাড়ির সামনে রাখা মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করেন এবং বাড়িতে ইটপাটকেল ছোড়েন। তবে এ ঘটনায় তিনি আহত হননি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বলেন, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল আকস্মিকভাবে মিছিল বের করেছিল। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে চার থেকে পাঁচটি ছোট শিশা উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো ছররা গুলির অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে খুলনার খালিশপুরে জুমার নামাজ চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২০ থেকে ২৫ জন নেতা-কর্মী ঝটিকা মিছিল করেছেন। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে খুলনা-যশোর মহাসড়কের আনসার উদ্দিন সড়কের মুখে মিছিলটি বের করা হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ধাওয়ায় মিছিলকারীরা সেখান থেকে সরে যান।
পুলিশের ভাষ্য, খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনস স্কুলের সামনে থেকে আনসার উদ্দিন সড়কের মুখ পর্যন্ত মিছিলটি বের হয়। এতে নেতৃত্ব দেন খালিশপুর থানা কৃষক লীগের সভাপতি রতন শেখ।
মিছিল চলার সময় পাশের একটি মসজিদে জুমার নামাজের খুতবা চলছিল। ওই সময় মসজিদ থেকে পাঁচ থেকে ছয়জন নামাজি বের হয়ে মিছিলকারীদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন।
একই সময়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে থাকা কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহীও সেখানে জড়ো হন। পরে মসজিদে নামাজরত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাইরে এসে মিছিলকারীদের ধাওয়া দেন। পরিস্থিতিতে মিছিলকারীরা কর্মসূচি শেষ না করেই দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে যান।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর বিভাগ) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, পুলিশের সক্রিয় তৎপরতার কারণে মিছিলকারীরা কর্মসূচি শেষ করতে পারেননি। তাঁদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ
সদ্য সংবাদ/ এআর