সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও আকস্মিক ও রহস্যজনক কারণে স্থগিত করা হয়েছে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের ২৬ সেপ্টেম্বরের বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক সাধারণ সভা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সভা স্থগিতের ঘোষণা দেন সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান হাসান। সেখানে বিস্তারিত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে কেবল ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার এই বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সভায় ক্লাবের সার্বিক কার্যক্রম ও সাংগঠনিক বিষয়াদিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনার সুনির্দিষ্ট অ্যাজেন্ডা নির্ধারণ করা হয় এবং সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সভা ঘিরে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে নির্ধারিত সভার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আকস্মিকভাবে সভা স্থগিতের ঘোষণায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান হাসান তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, অনিবার্য কারণবশত সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবারের বার্ষিক সাধারণ সভাটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী তারিখ পরে জানানো হবে।
সাধারণ সভা স্থগিতের নেপথ্য কারণ নিয়ে অনুসন্ধানে প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্যের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
জ্যেষ্ঠ সদস্যদের একাংশ জানান, সভার সব আয়োজন যখন চূড়ান্ত, ঠিক তখনই আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সভাটি স্থগিত করার চাপ বা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনিক এই চাপের মুখেও প্রেসক্লাব নেতৃত্ব সভা বহাল রাখার বিষয়ে একাধিকবার বৈঠক ও আলোচনা চালিয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সভার আগের রাতে ‘অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাব কিংবা প্রশাসনিক নির্দেশের কাছে নতি স্বীকার করে রাত ১১টায় সভাপতির ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সাধারণ সভা স্থগিতের ঘোষণা আসে।
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির মধ্যেও দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি পোস্টের মন্তব্যে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ইন্না লেখেন, কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেকই সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ সভা স্থগিত করতে হলেও পুনরায় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া আবশ্যক ছিল, যা এক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়নি।
একটি ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠনের স্বাধীন ও স্বাভাবিক গঠনতান্ত্রিক কার্যক্রমে এ ধরনের অদৃশ্য হস্তক্ষেপ, একতরফা সিদ্ধান্ত ও অহেতুক বাধা সৃষ্টির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ সদস্যরা।
সদ্য সংবাদ/এসকে