কুড়িগ্রামের প্রস্তাবিত কচাকাটা উপজেলায় রুমি বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কুমেদপুর পাতালীপাড়া এলাকায় নিজ শ্বশুরবাড়িতে রুমির মরদেহ পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে একই এলাকার মাহিন আহম্মেদ ওরফে শাহিনের সঙ্গে রুমির বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় নগদ টাকা ও বিভিন্ন সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দেওয়ার পরও পরবর্তী সময়ে আরও অর্থের জন্য রুমিকে নির্যাতনের অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
নিহতের ভাইয়ের করা এজাহারে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে রুমিকে একাধিকবার মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ আগে রুমির পরিবার থেকে তার স্বামীকে আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর রুমির সঙ্গে বিরোধ ও তাকে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে যৌতুকের বিষয়কে কেন্দ্র করে রুমির ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে নিহতের ভাই পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে কচাকাটা থানায় এজাহার দেন। এতে এনামুল হক, বিবি কুলছুম রুপা, ফজল হক, রুপভানু ও আমজাদ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ অর্পণ কুমার দাস জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী এনামুল হক ও দ্বিতীয় স্ত্রী কুলসুমকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস