ভোলার বোরহানউদ্দিনে একটি বসতঘরের মালিকানা ও সেখানে বসবাসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের অভিযোগ, ঘরের তালা ভেঙে জোরপূর্বক প্রবেশ করে বসতঘর দখল, ভাঙচুর ও মারধর করা হয়েছে। অন্য পক্ষ অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, ওই ঘরে থাকা নারী নিজেকে পরিবারের পুত্রবধূ দাবি করে সন্তানসহ সেখানে বসবাস করছেন।
ঘটনাটি উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্যর পোলসংলগ্ন ছালাম ডাক্তার বাড়ি এলাকায়।
বসতঘর ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে পরিবারকল্যাণ সহকারী হিসেবে কর্মরত আফরোজা বেগম নিরু। তাঁর অভিযোগ, গত ৫ ডিসেম্বর কর্মস্থলের কাজে বাইরে থাকার সময় তাঁর ঘরের তালা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করে বসবাস শুরু করা হয়।
নিরুর অভিযোগ, এ সময় তাঁর বোন বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় হেলাল উদ্দিন রিজু, তাঁর স্ত্রী ফাহিমা বেগম, মাহাবুবের স্ত্রী ফাতেমা বেগম এবং মাহাবুবের মেয়ে রুনা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি।
নিরু আরও দাবি করেন, তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর ছেলে শাহারিয়া হাসান মহিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত ২৪ ডিসেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদিয়া নামে এক নারী জোরপূর্বক তাঁর বসতঘরে অবস্থান করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আফরোজা বেগম নিরু বলেন, মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। নিজের জায়গা ও ঘর দখল করে তাঁকে ঘরছাড়া করা হয়েছে দাবি করে তিনি নিরাপত্তা এবং বসতঘর ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন হেলাল উদ্দিন রিজু। তাঁর দাবি, ওই ঘরে অবস্থানরত নারী তাঁর বোন এবং তিনি চার মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। ওই নারীর সঙ্গে আফরোজা বেগম নিরুর ছেলে শাহারিয়ার হাসান মহিনের গোপনে বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
হেলাল উদ্দিন রিজুর ভাষ্য, পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়েটি মেনে না নেওয়ায় তাঁর বোন সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী হিসেবে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ওই ঘরে অবস্থান করছেন। মহিন পরিবারের চাপের কারণে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করায় তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, তাঁর বোন ওই পরিবারের পুত্রবধূ এবং স্ত্রী হিসেবে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন। তাই ঘটনাটিকে জোরপূর্বক বসতঘর দখল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে তাঁর দাবি।
এদিকে একই বসতঘরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ বিষয়টিকে ঘর দখল ও হয়রানি হিসেবে দাবি করলেও অপর পক্ষ এটিকে বৈবাহিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয় হিসেবে তুলে ধরছে।
বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সদ্য সংবাদ/এসএস