সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, সাধারণ মানুষের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার ও দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে সোমবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা। তিনি বলেন, “তথ্য পাওয়া নাগরিকদের মৌলিক ও সংবিধিবদ্ধ অধিকার। সরকারি কিংবা বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান থেকে নাগরিকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া তথ্য পেতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ সচেতন হলে এই আইনের সুফল শতভাগ পাওয়া সম্ভব।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান বলেন, পুলিশি সেবামূলক কার্যক্রম ও তথ্য প্রদান প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ সাধারণ জনগণের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করে।
জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “মুক্ত সাংবাদিকতা ও তথ্যের অবাধ সুযোগ নিশ্চিত না হলে একটি জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠন অসম্ভব। প্রশাসনিক স্তরে তথ্যের গোপনীয়তার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণকে সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে হবে।”
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল মামুন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খান, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, জাহানুর রহমান খোকন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কর্মকর্তা সৌমেন দাস এবং সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) জেলা সভাপতি রওশন আরা বেগম।
বক্তারা বলেন, তথ্য অধিকার আইনকে কার্যকর করতে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তথ্যের আবেদন নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সনাক-টিআইবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সংবাদ/ এআর