রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বিজিবির ওপর হামলা চালিয়ে তল্লাশিতে আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।
সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন পিসিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম।
বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার দুমদুমিয়া বিজিবি চেকপোস্টে তল্লাশির সময় অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিক—মনসিক্কা তংচংঙ্গা ও সুশীল তংচংঙ্গাকে আটক করে বিজিবি। তাঁদের বাড়ি ভারতের মিজোরাম রাজ্যে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ভারতীয় আধার কার্ড, কসমেটিকস ও বিপুল পরিমাণ পোশাক জব্দ করা হয়।
পরে আটক ব্যক্তিদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় রাজস্থলী থানায় হস্তান্তরের জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে ১০০ থেকে ২০০ জনের একটি দল বিজিবির টহল দলের ওপর হামলা চালায় বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। পিসিসিপির অভিযোগ, হামলাকারীরা বিজিবি সদস্যদের মারধর করে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পিসিসিপির নেতারা বলেন, সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব, আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তাঁদের দাবি, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে পিসিসিপির পক্ষ থেকে হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার, ছিনিয়ে নেওয়া দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে আইনের আওতায় আনা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান জোরদারের দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা ও অপপ্রচার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সদ্য সংবাদ/ এআর