ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া (১৯) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর গ্রামের সেবু সরকার ও আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে গত ৩০ জুনও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগের পর সেবু সরকার বাড়ির প্রায় ১৫০ জন লোক গত তিন মাস ধরে এলাকা ছেড়ে নরসিংদীতে অবস্থান করছিলেন। রোববার তাঁরা এলাকায় ফিরে এলে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জেরে সোমবার গভীর রাতে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সেবু সরকারের নাতি মোক্তার হোসেন সরকার অভিযোগ করেন, তাঁদের বংশের প্রায় দেড় শ লোক তিন মাস ধরে এলাকা ছাড়া ছিলেন। এলাকায় ফেরার পর আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনের নেতৃত্বে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, গরু নিয়ে যাওয়া ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আজগর আলী সরকার বাড়ির নেতা সাদেক মেম্বার। তিনি বলেন, “পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। আমরা লুটপাট করিনি।”
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক জুয়েল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত স্বাধীন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নিহত জুয়েল মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের ছেন্টু মিয়ার ছেলে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার লিটন আব্দুল্লাহ বলেন, “জুয়েল মিয়াকে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।”
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, পাঁচটি তাজা ককটেল ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/ এআর