কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা না মানার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় গোলাম মোস্তফা রাসেলকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তিনি সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন।
কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপ এবং স্থায়ী ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়। তবে তিনি কোনো জবাব দেননি। পরবর্তী সময়ে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার পাশাপাশি ই-মেইলেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এত কিছুর পরও তিনি কাজে যোগ দেননি এবং অনুপস্থিত থাকার কারণ জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে লিখিত বা মৌখিক কোনো বক্তব্যও দেননি।
এ অবস্থায় পুলিশ সদর দফতরের চিঠির ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগনামা ও অভিযোগের বিবরণ পাঠিয়ে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সেই নোটিশের জবাব দেননি। জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়ারও কোনো উদ্যোগ নেননি তিনি।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ৯ ডিসেম্বর দেওয়া প্রতিবেদনে গোলাম মোস্তফা রাসেলের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি তাঁকে আবারও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। চাকরি থেকে বরখাস্তসহ অন্য কোনো গুরুদণ্ড কেন দেওয়া হবে না, নোটিশে তা জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফার নোটিশেরও কোনো উত্তর দেননি তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এরপর তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
বরখাস্তের বিষয়ে ১২ জুলাই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হয়। পরে ১১ আগস্ট পিএসসি গোলাম মোস্তফা রাসেলকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে পরামর্শ দেয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি তাঁর বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সদ্য সংবাদ/ এআর