শরৎ এলেই বাংলার প্রকৃতিতে যোগ হয় নতুন রঙ। নীল আকাশ আর সাদা মেঘের সঙ্গে এবার সেই সৌন্দর্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে সারি সারি কাশফুল। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী এলাকায় বিস্তীর্ণ কাশবন এখন হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম জায়গা।
টিয়াখালী ইউনিয়নের সিক্স লেন সড়ক ও পায়রা বন্দরসংলগ্ন এলাকায় পরিত্যক্ত জমিজুড়ে ফুটেছে অসংখ্য কাশফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজ জমির ওপর কেউ যেন সাদা চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। বাতাসে কাশফুলের দোল খাওয়া আর চারপাশের খোলা পরিবেশে মুগ্ধ হচ্ছেন সেখানে বেড়াতে আসা মানুষজন।
সকাল থেকেই পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ছুটে আসছেন কাশবনের সৌন্দর্য দেখতে। অনেকেই প্রকৃতির এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করছেন। কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার পাশাপাশি অনেকে ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় কাশবনের দৃশ্যপট। সকালের কোমল আলোয় সাদা ফুলগুলো ঝলমল করলেও বিকেলের সূর্যের আলোয় সেখানে তৈরি হয় ভিন্ন আবহ। সূর্যাস্তের আগে কাশফুলের ওপর পড়া সোনালি আভা দর্শনার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি বছর শরৎ মৌসুমে এই এলাকায় কাশফুল ফুটলে বাইরে থেকে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। শিশুদের নিয়ে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তরুণদেরও ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো।
দর্শনার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, ব্যস্ততা ও শহুরে কোলাহল থেকে দূরে এমন পরিবেশে কিছু সময় কাটালে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। কাশফুল আর খোলা বাতাসের এই পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করেছে।
প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্যেই এখন টিয়াখালী পেয়েছে ভিন্ন এক পরিচিতি। শরতের কাশফুলের শুভ্রতায় বদলে যাওয়া এই এলাকা তাই স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও হয়ে উঠেছে সাময়িক এক নৈসর্গিক গন্তব্য।
সদ্য সংবাদ/এসএস