বগুড়ার ধুনটে একটি মোবাইল ফোনের দোকানে চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম টোলপ্লাজা এলাকায় ঢাকাগামী একটি বাসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের হিসাবে উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান।
পুলিশ জানায়, ধুনট পৌরশহরের ইছামতী ডিজিটাল কমপ্লেক্সের প্রথম তলায় ‘মাসুদ টেলিকম’ নামের দোকানে ভোরে চুরির ঘটনা ঘটে। আগের রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান মালিক মাসুদ রানা। পরদিন সকালে মার্কেটের নৈশপ্রহরী কয়েকজনকে ব্যাগ নিয়ে মার্কেট থেকে বের হতে দেখেন। পরে দোকানে গিয়ে শাটারের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
খবর পেয়ে দোকানে এসে মালিক দেখতে পান, গ্যালারিতে রাখা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন নেই। পরে এ ঘটনায় ধুনট থানায় মামলা করেন তিনি।
মামলার পর চোরদের শনাক্তে কাজ শুরু করে পুলিশের একটি বিশেষ দল। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে পুলিশের কাছে চক্রটির গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য আসে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরির পর দলটি ধুনট থেকে শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে যায়। সেখান থেকে ঢাকাগামী একটি শ্যামলী পরিবহনের বাসে ওঠে তারা। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ বাসটির গতিপথ অনুসরণ করে এবং সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ ও বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
পরে বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম টোলপ্লাজায় পৌঁছালে সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় আটজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া সবগুলো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-চট্টগ্রামের আল আমিন, আক্কাস আলী ও হৃদয়, নরসিংদীর ইমরান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইয়াছিন আরাফাত, কুমিল্লার রবিউল ইসলাম, আলা উদ্দিন ও ইস্রাফিল রহমান।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিষয়ে ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিডিএমএস) তথ্য যাচাই করে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলো শনাক্ত করার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সদ্য সংবাদ/এসএস