নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লামিয়া (১৫) মারা যায়। এ নিয়ে ওই ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলো।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় আতিয়া (১১) এবং বুধবার জিদনী (১৪) মারা যায়। বৃহস্পতিবার লামিয়ার মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আসিয়া (১২) ও সুমাইয়া (১৩)। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তারা হাসপাতালের ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং তুলনামূলক ভালো অবস্থায় রয়েছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুরে মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসার ছাদে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় সেখানে থাকা পাঁচ শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়। তাদের মধ্যে আতিয়া, জিদনী ও লামিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনার সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ভবনের ছাদে খেলাধুলা করছিল। ভবনটির পাশ দিয়ে উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক লাইন যাওয়ার পাশাপাশি সেখানে একটি ট্রান্সফরমারও রয়েছে। খেলাধুলার একপর্যায়ে ছাদ থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে নিচে থাকা গ্যাস রাইজারে আগুন ধরে যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা লাঠির মতো কোনো বস্তু বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে সেখান থেকে স্পার্ক তৈরি হয়। সেই স্পার্ক থেকেই নিচে থাকা গ্যাস রাইজারে আগুন ধরে গিয়ে ছাদে থাকা শিক্ষার্থীরা দগ্ধ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজিয়া আক্তার জানান, বিকেলে ছাদ থেকে বিকট শব্দ ও শিশুদের চিৎকার শুনে তাঁরা বাইরে আসেন। এ সময় আগুন জ্বলতে দেখা গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা নিভে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ছাদে উঠে দগ্ধ শিশুদের উদ্ধার করে অটোরিকশায় হাসপাতালে পাঠান।
ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার বলেন, শিক্ষার্থীরা ফ্ল্যাশ বার্নের শিকার হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে আতিয়ার শরীরের ৪৫ শতাংশ, জিদনীর ৮২ শতাংশ এবং লামিয়ার ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তিনজনই মারা গেছে। বাকি দুই শিক্ষার্থী তুলনামূলক ভালো অবস্থায় রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেকজন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় শিশুদের হাতে আখ ছিল। কোনোভাবে সেটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে গিয়ে স্পার্ক সৃষ্টি করে। এরপর সেই স্পার্ক থেকে গ্যাস রাইজারে আগুন ধরে শিক্ষার্থীরা দগ্ধ হয়।
সদ্য সংবাদ/ এআর