লাউয়াছড়া এলাকায় আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের বগির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ চার ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিচ্ছিন্ন বগিগুলোর সংযোগ পুনঃস্থাপনের পর ওই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের (৭২০) মাঝামাঝি অংশের সংযোগ হুক ছিঁড়ে যায়। এতে ট্রেনটির পেছনের নয়টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ইঞ্জিনসহ সামনের সাতটি বগি নিয়ে ট্রেনটি শ্রীমঙ্গলের দিকে এগিয়ে যায়। অন্যদিকে পেছনের নয়টি বগি মাগুরছড়া এলাকায় আটকা পড়ে। খবর পেয়ে রেলওয়ের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচ্ছিন্ন বগিগুলোর সঙ্গে ট্রেনের পুনরায় সংযোগ স্থাপনের কাজ শুরু করেন।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার শিপলু সূত্রধর জানান, পরে ট্রেনটি পেছনের দিকে ফিরিয়ে এনে বিচ্ছিন্ন বগিগুলোর সঙ্গে সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে সংযোগ হুক লাগানোর কাজ শেষ হয়।
এরপর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস শ্রীমঙ্গল স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর ট্রেনটির প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ করার কথা জানান রেলওয়ে কর্মকর্তারা।
এদিকে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস আটকে থাকায় সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ভানুগাছ স্টেশনে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং শ্রীমঙ্গল স্টেশনে সিলেটগামী আরেকটি পাহাড়িকা এক্সপ্রেস আটকে ছিল। দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামগামী যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগের শিকার হন।
বিচ্ছিন্ন বগির সংযোগ মেরামত শেষ হওয়ার পর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে রেল চলাচল আবার শুরু হয়। ফলে প্রায় চার ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
সদ্য সংবাদ/এসকে