টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিচার দাবিতে অভিযুক্তের বাড়ির আঙিনায় চার দিন ধরে অবস্থান করছেন ৬২ বছর বয়সী এক নারী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দিঘলআটা গ্রামে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত রোববার রাত ৮টার দিকে একই গ্রামের কবিরাজ আরশেদ আলী তাকে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে বাড়ির বাইরে ডাকেন। পরে তাকে টেনে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করা হয়।
ওই নারীর চিৎকার শুনে তার এক নাতি ঘটনাস্থলে গিয়ে আরশেদ আলীকে আটক করেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কিছুক্ষণ পর অভিযুক্তের পরিবারের লোকজন এসে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
এরপর ঘটনার বিচার ও অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে আরশেদ আলীর বাড়ির আঙিনায় অবস্থান নেন ওই নারী। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে যাবেন না বলেও জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর ছেলে হেলাল তালুকদার দিনমজুর। তিনি বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে তাদের পক্ষে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোনো কঠিন। স্থানীয় প্রভাবশালীরা গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলছেন।
স্থানীয় মাতব্বর মজিবুর রহমান জানান, কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মীমাংসার উদ্দেশ্যে চৌকিদারের মাধ্যমে সালিশ ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে আরশেদ আলীর ছেলে মো. আসলাম তার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তার বাবা ওই নারীর বাড়িতে ঝাড়ফুঁক দিতে গিয়েছিলেন। ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আকরাম হোসেন আসাদ বলেন, ঘটনাটি গুরুতর। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
অভিযোগ ওঠার পর থেকে আরশেদ আলী পলাতক রয়েছেন। ফলে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে অভিযোগকারী নারী বা অভিযুক্ত কাউকেই পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসকে