কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী (মহুরি) সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে জয় পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল বাতেন। নির্বাচনের আগের দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেও ভোটের ফলাফলে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কুড়িগ্রাম জেলা বারের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ফলাফল নিশ্চিত করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সভাপতি পদে আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ২০৯ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুক আহমেদ পেয়েছেন ১৪০ ভোট। অর্থাৎ ৬৯ ভোটের ব্যবধানে সভাপতি পদে জয় পান বাতেন।
এ নির্বাচনে আব্দুল বাতেন সমর্থিত প্যানেল থেকেও একাধিক প্রার্থী জয় পেয়েছেন। ১৪ সদস্যের কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তার প্যানেলের মোট আটজন নির্বাচিত হয়েছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন বাতেন সমর্থিত আতিয়ার রহমান। তিনি পেয়েছেন ১৭১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুর রহমানের ভোট ১০১।
নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৬২ জন। এর মধ্যে ৩৫৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচনের আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আব্দুল বাতেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কুড়িগ্রাম সদর থানা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আব্দুল বাতেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ওই ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কুড়িগ্রাম জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকনের আইনজীবী সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
তার গ্রেপ্তার নিয়ে নির্বাচনের আগে সমিতির কয়েকজন মহুরি অভিযোগ করেন, বাতেনকে নির্বাচনে পরাজিত করার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে একজন প্রার্থী গ্রেপ্তার হওয়ায় তিনি বিষয়টিতে মর্মাহত হয়েছেন। কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তার মতে, গ্রেপ্তারের ঘটনায় বাতেন সহানুভূতিশীল ভোট পেয়েছেন এবং তার প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস