লালমনিরহাটকে দেশের অন্যতম প্রধান কৃষি জেলা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি ভুট্টা উৎপাদনের জন্য আলাদা পরিচিতি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে লালমনিরহাট শহরের মিশনমোড় এলাকায় ‘ভুট্টা চত্বর’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, লালমনিরহাটের কৃষি অর্থনীতিতে ভুট্টার ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। জেলার উৎপাদিত ভুট্টাকে স্থানীয় গণ্ডির বাইরে নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য পণ্যটির ব্র্যান্ডিংয়ের পাশাপাশি উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হবে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘ভুট্টায় ভরা সবার ঘর, লালমনিরহাট স্বনির্ভর’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কৃষিনির্ভর জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। ভুট্টাকে কেন্দ্র করে জেলার নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করতেই শহরে ‘ভুট্টা চত্বর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, গত কয়েক বছরে লালমনিরহাটে ভুট্টা চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিস্তা ও ধরলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় উর্বর জমিতে কৃষকরা ব্যাপকভাবে এ ফসল আবাদ করছেন। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আধুনিক সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভুট্টা চত্বর নির্মাণ শেষ হলে এটি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণের স্থান হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। কাজ শেষ হওয়ার পর চত্বরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
লালমনিরহাটের ভুট্টাকে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। তার মতে, এভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির পরিচিতি তৈরি করা গেলে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি জেলার অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাটের মাটি ও আবহাওয়া ভুট্টা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তিস্তা ও ধরলার চরাঞ্চলে বড় পরিসরে এ ফসলের আবাদ হচ্ছে। ভুট্টা চাষের সঙ্গে জেলার বিপুলসংখ্যক প্রান্তিক ও বর্গাচাষি যুক্ত রয়েছেন। উৎপাদন-পরবর্তী বিভিন্ন কাজে গ্রামীণ নারীরাও অংশ নিচ্ছেন।
দেশের পোল্ট্রি, মৎস্য ও ডেইরি শিল্পের খাদ্য তৈরিতে ভুট্টা গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় লালমনিরহাটের এ ফসলের চাহিদাও রয়েছে। জেলার স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উৎপাদিত ভুট্টা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হয়।
ভুট্টা চত্বরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি গ্রামীণ সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী। সড়ক দুটির উন্নয়ন হলে কৃষিপণ্য দ্রুত হাট-বাজারে নেওয়ার পাশাপাশি ওই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস