প্রিজনভ্যান থেকে আলোচিত আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’র পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত- টাকার বিনিময়ে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। পরে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় পলায়নের ‘নাটক’ সাজানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
পুলিশ কমিশনার জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ জন আসামিকে প্রিজনভ্যানে করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। পথে কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকার পশ্চিমে পিচ্চি রাজা পালিয়ে গেছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে থানায় পেনাল কোডের ২২৪ ধারায় মামলা করা হয়।
ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পরে জিএমপির ডিবি দক্ষিণ বিভাগকে দেওয়া হয়। তদন্তের শুরুতেই দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।
তদন্তে ডিবি বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে। এসবের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, আদালত থেকে ফেরার পথে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রিজনভ্যানটি থামানো হয়েছিল।
জিএমপি কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজনভ্যানের চাবি নেন। এরপর পিচ্চি রাজা ও অপর হাজতি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামানো হয়।
খাইরুল বাশারকে প্রিজনভ্যানের সামনের অংশে রাখা হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর ভ্যানে ওঠেননি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বরং আগে থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয় বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের দাবি, পরে পুরো ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে কোনাবাড়ী এলাকায় পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার একটি সাজানো ঘটনা তৈরি করা হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্য ও বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় নায়েক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
তবে পিচ্চি রাজা এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জিএমপি কমিশনার।
সদ্য সংবাদ/এসকে