মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জমিতে ছড়িয়ে রাখা ধান খেয়ে ৭০টি ডিমপাড়া হাঁস মারা যাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক খামারি। একই ঘটনায় তার খামারের আরও দুই শতাধিক হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) উপজেলার পূর্ব সিঙ্গুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারি শাহাবুদ্দিনের দাবি, জমিতে ছড়িয়ে রাখা ধানে বিষ মেশানো ছিল।
শাহাবুদ্দিন জানান, তার খামারে ‘ক্যাম্পবেল’ জাতের ৩১০টি হাঁস ছিল। স্থানীয়ভাবে এসব হাঁস ‘টেপি হাঁস’ নামে পরিচিত। এর মধ্যে অধিকাংশ হাঁসই ডিম দিত। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে হাঁসগুলোকে বাড়ির কাছের হাতপারি গাঙে ছেড়ে দেন তিনি।
দুপুরের দিকে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে হাঁস মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান শাহাবুদ্দিন। সেখানে গিয়ে নিজের খামারের ৭০টি হাঁসকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। আশপাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও ছয়টি মৃত হাঁস পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে জীবিত হাঁসগুলো বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
খামারি বলেন, নদীর তীরবর্তী একটি জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধান হাঁসগুলো খেয়েছিল। মৃত হাঁসগুলোর পেটের ভেতরও ওই ধানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ কারণেই বিষ মেশানো ধান খাওয়ার পর হাঁসগুলোর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।
শাহাবুদ্দিনের ভাষ্য, জীবিকার প্রয়োজনে প্রায় পাঁচ বছর সৌদি আরবে ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর হাঁসের খামার শুরু করেন। বর্তমানে এই খামারের আয়ের ওপরই তার পরিবারের সংসার নির্ভরশীল।
আহত ও অসুস্থ হাঁসগুলোর চিকিৎসায় একজন প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ময়নুল হক ঘটনাটিকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেছেন। কারা জমিতে ওই ধান ছড়িয়ে রেখেছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে খামারমালিককে কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস